জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ১৮

হে জাতের মোড়ালগণ, হুজুর, পাদ্রী, গোঁসাই, সাহেবান, শুনিয়া দেবপত্র দরে বয়ান।

পড়িয়া অপরের কর দান, নিজ দেহ ভান্ডে নাই অবদান, হাইরে মস্তবড় বেঈমান।

আমার জন্ম, আমার মৃত্যু, আমার জীবন, আমার স্বর্গ, একান্ত আমারী, ভাগ দেবার নই।

আমার ঈশ্বর, আমার পরমের্শ্বর, আমার অন্তর প্রাণান্ত ঈমানেরী, অন্যর দেখাবার নাই।

কুসংস্কার জাত ধর্ম চারি, না দেখিয়া মেতেছো প্রচারকারী, বাঁধাই করা কিতাব পাড়ি।

ধর্মে প্রভূ বাস করে না, বাস করে মর্মে, মর্মের মানুষ পাবো কজনা, ধর্ম-রসনার রঙ্গে।

শুনিয়া পড়িয়া অবতারের পাঠ, দেখ বেহুদা ভন্ডামি-বাজ, মিশিয়া গেছে জাতের সঙ্গে।

আপনার চেয়ে হই আপন, ভক্তের মাঝে ভগবান গোপন, ঝাঁকে জাতেরা মাতম-পতঙ্গে।

আপন সত্য আগলা করিয়া, মর্ত্যে মাতেলা ধর্মের গুরুরা, দলে বলে দৈত্য রে হামিরা।

ধর্মের দত্তকে দম্ভের মসনদে, যারা প্রাণির রক্তে করে হলী-খেলা, মনুষ্য শূন্যে মারহাবা।

মাঝি বিনে খেঁয়াতরী, গন্তব্য পথ হারাবো ঠিকই, পড়ে শুনে জাত নামনামি না দেইখা।

চোর ঢুকেছে আপন ঘরে, চাচা চেচাই দৌড়ের পরে, বাহিরেতে লড়ে মারে, গোঁ-বেচারা।

বিদ্যা বিক্রেতা তোলে বেতন ভাতা, বিদ্যার হবে শেষ, দেহের অবসানে বিদ্যা যাই মারা।

প্রিতম মহিম জ্ঞানেশ্বর হর্তাহ তুমি, সকল জীবের জীবান্তর যারি, যার চালনার নাই জুড়ি।

কখনো ক্লান্তে পাইনা তারি, মৃত্যু ছুইবার নই, আজীবন্ত দয়াময় মাবুদ, সকল প্রাণের স্বামী।

সুরে সৃষ্টি সুরে বিনাশ, সুরের দেশে সোনা-রোদ্রে সুন্দর মানুষ, সুরে স্বর্গে সুখের বসবাস।

ধার্মিক গোপন একান্ত কর্ম, শুনে পড়ে চলে জাতের ধর্ম, প্রতিনিধি সেজে করে অপরাধ।

সুধর্মের প্রতিষ্ঠা নিতান্ত মর্মতার, আপনার বাহিরে অপধর্মতার, মনুষ্য হারাবার অন্ধকার।

চার চিজে খেলেছে তেলেছমাতি, পাপি নাস্তিক কই পালাবি, জীবন্ত জাহান্নাম না পেরোবি।

যার শুরু আছে শেষ নাই, জন্ম মৃত্যু আসে যাই, জীবন ও জগৎ, সৌর যাচ্ছে বয়ে যায়।

ভগবান আছে দেখিলাম তাই, শোনো জীবন তোমারও শেষ নাই, স্বর্গ বা নরক পাবে ঠাঁই।

ওরে নিকৃষ্টি ভূগোল পূজারী, ভূগোলের উপরে কাশী, মক্কা, সোনাগয়া গড়ি, কাল কাটালী।

নির্ভুল নৈরাস্যকর মিথ্যুক পাপাচরি, আদম ফেলিয়া আজাজীলের শিষ্যরা, দম্ভে দাপাদাপি।

এ মহাবিশ্ব, জগতের রুপকার, তাহারে করে রুপদান, জাতে ইয়াজুজ, মাজুজের পোলাপান।

জাগ্রত হও চির জাগ্রত মহা প্রকৃতি, গর্জে মেঘ্র হানো বর্জ্র, হোক নাস্তিকের ঘাটি আতঙ্কপুরী।

মহা-আস্তিক মহৎ পুরুষ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল, ভিন-ভাষির দাসেরা বলেছিল নাস্তিক।

হুতাসন সে ঘিরিয়া ফেলুক, পাপি-তাত্তা বেদনায় পুড়ুক, চির সুন্দরের সুরের বাগিচা বাচুক।

কাজী নজরুলের যেখানে শেষ, দেহীফারুকের সেখানে শুরু, সত্যের মর্মে, চির উন্নত মোদেরশির।

জাহেল আরব্য হায়নার, হাতে ঢাল তলোয়ার, পিঠে বাঁধা তীর, ধর্ম-কুলাঙ্গার তারা শান্তির পীর!

অন্তরনিহীত হর্তাহ আমার, নেই কি বলো আমার ভাষার, অন্যের ভাষায় সে কেমনে আমার?

10 thoughts on “জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ১৮

  1. অত্যান্ত গভীর মতবাদ সাধারণত আমরা যেগুলো ভাবি না সেগুলো আপনি লিখেছেন হয়তো অনেকেই মানতেও পারে নাও পারে তবে আপনি যে লিখেন এবং ভাবেন এতেই আপনার প্রতি সম্মান বেড়ে যায়। সাধু সাধু

  2. হে কবি,,,
    তোমার চরনে জানাই প্রনাম।।।
    যতবারই পড়ি,,,
    ততবারই নতুন করে মুগ্ধ হই।।।
    অসাধারণ কথায়,,, অতুলনীয় বাক্য।।।
    সব মিলিয়ে অসাধারণ।।।

Leave a Reply