জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ২৪

যাহা হইবার গেছে হইয়া,কি আর হবে সাবধান কইরা,দিশেহারা সমাজ,নিকৃষ্ট প্রথায় পড়েছে ধরা।
ধুররে ওরা কেমন রাজা,হিংসাত্মক কাটা চেয়ারে গুজেছে মাজা,প্রজা গোলামদের, লাঞ্চিত মৃত্যু বিভীষিকা।
প্রভু তোমার হারাই জ্ঞান লব্ধতা,বইয়া চলে বিচার বিধানসভা,বিদ্যায় বক্তাই জাকের জকারিয়া।
এ নই কোন মানবিক সভ্যতা,গাড়ো কুয়াশা আবরণে ঢাকা,অত্যাধুনিক অসভ্যতা,পশুত্বের ভয়াবহতা।
কতটা বর্বর নেশাচর দানব শিষ্যরা,মারণাস্ত্র বানাই করে যুদ্ধের মহড়া,রাষ্ট্রতন্ত্রের উজবুক জান্তারা।
অহং আমিত্বের নিশাত্বক ছোবলে,বীষহরী বানগায়া, অজ্ঞাত সীমাহারা অন্ধকারে, ডুবালে মনুষ্য বেলা।
হে মানুষ কোথায় তোমরা,নিজেকে চিনলে না, করলেনা নিজেকে সেজদা,এনেছিলে মানব তাহার ভালবাসা।
আপন চেতনায় হইয়া আন্ধা,পরের বেদনায় করিয়াছো ধান্দা, শুনে পেড়ে সেজেছো পান্ডা,কেতন উড়াইয়াছে ঝান্ডা।
জাত ধর্মে জগতে বসাইছে মেলা,পুস্তকে বাধা বিধান, ভুগোলে দালান গড়া, বিদ্যায় মস্তকে প্রদান,যার যেই বুঝ সেই বুঝবান ।
হিন্দুরা কহে মুসলমান, গেলাফে ঢাকা ইমারত বলে আল্লার ঘর,মুসলমান কয় হিন্দুরা প্রতিমাকে বানাই ভগবান।
মর্মে মনুষ্যত্ব করিয়াছে হারাম,কুড়াইয়া লইয়াছে গা-ভর্তি অনাচারী বেয়ারাম,এ জাত বনাম বিজাত তর্ক মালাম।
অতি ধিক্কার এই অপজাত অসভ্যতার,ভর্ষণা ভবতারী ভূতের অপতৎপরতা, জাত ধর্ম জয়ের স্লোগান, বয়ে চলে অপবীভৎসতা।
মহাপ্রাণ মহাপ্রভুর অস্তিত্ব ফেলিয়া, গেড়ে নিয়েছে দরগা,মসজিদ,মন্দির প্যাগাডা,তন্ত্র মন্ত্রে তান্ত্রিক তরিকীয়া।
আপনার মাঝে ছিলো অমুল্য রতন,মানব জনমে ষোল আনা বিফল যখন,জীবন ও জগতে কি হবে এখন।
এ সকল প্রাণীকূলের উদ্ভাবক স্রষ্টা,তাহার নামে প্রাণীকূল হত্যা,লৌম-হর্ষকর মিথ্যাচার,মস্তক দুলায়ে পড়ে কেচ্ছা।
মস্তিক্য বিদ্যার অমার্জিত বিজ্ঞান,সত্ত্বা প্রাণে এসে গড়েছে অজ্ঞান, পৃথিবী গ্রহ ছেড়ে,খোড়ে প্রাণীকূলের বাসস্থান।
পারমাণবিক মারণাস্ত্র যুদ্ধে পুড়াচ্ছে প্রাণের ধরণী,অমানবিক দৈত্যদানবী,পাপ পংখিল পৌরতান্ত্রিক পরিস্থান।
এথায় ক্রমায়ণ চ্যুতিতে,পাপী তাত্তা হোক সীলগালা,নরক র্নিদিষ্ঠ দায়ে কায়ালয়া ,যার যথা উপযোগী তথা।
জীবণ ও যাপনে জাত জুংলার যন্ত্রণা, মরণ উত্তর মামলা,নিয়ে কি তাদের ব্যবসা?মর্মসাধন নইরে এতো সস্তা।

সর্বস্ব মরমো সম্মতিতে জানাই ধিক্কার,সর্বাঙ্গির অসভ্যতায়,ঘিরিয়াছে গাঢ়ো অন্ধকার,মনুষ্যহীণ অমানুষের জকার।
রুপ নিহারীর রুপের দেশে,সে রুপ আমি কি দেখিলাম,সমাজকূলে যেই কহিলাম,তাইতে আমি পাগল হলাম।
হঠাৎ করেই সেদিন থেকে, সেই আমি ফারুক আহাম্মেদ,দেহীফারুক হইলাম, জাতের ফেতনা ভাসিয়ে দিলাম।
তাইতো পাগল হলাম,বেশতো ভালোই হলো,গেলো আমার সংসার গেলো,ধম্ম গেলো মর্ম তাপ গেলো।
তোমাদের নিদারুণ অবজ্ঞাতে, আমি পৌছে গেছি ধ্যানত্ব একলাত্বের একান্তে,আপন মনের গহীনের তলে।
হইয়াছি পাগল হবো,সেইতো আমার ভালো,আপন প্রাণের মোহনতানে,শুনিলাম সুর ছন্দে নৃত্যে।
আমার এই পরম পাগলামী, আমার জন্মান্তরের ভাগ্য,আমি জাতধর্ম করিয়াছি ত্যাজ্য, ঈমানে আদম মর্মের আদ্য।
দলে জোটে পালোয়ান,হাইরে একি অপমান,ঐশ্বর্যের দেয়ালে ঠোকে মাথা,মর্ম হারার একি দশা।
হাশর-নশর ধরাধরি, চলছে লড়াই মারামারি,সপ্ত ইন্দ্র বীষের সৌরতাজ, মস্তকে তুলেছে বোকাবাজ।
এবার হবে হবেই ভরাডুবি, কুসংস্কার অপজাতের কুকারসাজী,হে মানবের মন মাঝি,সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী।
বীণার সুরে হৃদয় মাতে,কেমনে তাতে পাপ হবে রে,পাপে জ্বরা সুর যে হারা,সময় এসেছে সবে যাবে জানা।
শোনো বলি জাতের খুয়াড়ে, বাধা আছো যারা,পুস্তকবিধান মুখস্তে বিদ্যান,অজ্ঞানে হইবেরে সকলি অবসান।
সুরে সৃষ্টি উল্লাসের,সুর হর্তাহর প্রকাশের, সুরে অপঘাত পংগপাল বিনাশের, সু-সুরে স্বর্গ শুদ্ধ মানুষের।
রশিক বিনে কে হই প্রেমিক,পরম প্রেমে কি পাগলামী, শুনবে যখন কি সে পণ,ধন্যি ধন্যে পড়বে তখন।

5 thoughts on “জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ২৪

Leave a Reply