জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ২৫

কি মহিমা এই হৃদয় পটে,কে বুঝিবে প্রেমিক সে কে,হায়রে সখের বাড়ী গাড়ী, ভেবে একবার বসত করি।
উঠলে বাতাস নিইভা যাবে,লোভের আশা হইবে মিছে,নিয়ন আলোর নিয়ন বাতি,চোখ হারালে রাতারাতি।
জ্ঞান সাঈরের নাই কিনারা,জ্ঞান পাপিরা আবর্জনা,সাজবেলা কে হই দোষী,সময় বিশেষ একটু খানি।
দুঃখ জয়ে সুখ ঠিকানা,দুই দিলেরী দুঃখ দুনিয়া,কেউ নই কারো দুখের দুঃখী,যার সুখেতে সেইতো সুখী।
এতো দিন কালের চরম প্রশ্ন,বলে দেবেন জ্ঞানেন্দ্র বুদ্ধ,একই নবীর আসা যাওয়া,তোমরা যে আজ বাকা তেড়া।
এক মহানের মর্মের ধর্ম,যাহা মানবিয় একান্ত আপন কর্ম,অনাচারী অধর্মের ক্লান্তজরা,জাতে অতীতের পড়ে কেচ্ছা।
ভবাতুর ভুতেল ভৌতিক ভাবনা,ভুগোল পূজারী আদম চেনো না,ভণ্ডের ভণ্ডামী দলিলের ছলনা,মরলে সাথে কেউ যাবে না।
তোমাদের নিকৃষ্ট কালে আসি,সালাত কায়েম কারে বলি,স্মরণে ভরা হৃদয় খানি,প্রাণে মসজিদ গড়ে তুলি।
নিজ থেকে দুরে অজানা ভিন্নপুরী,মরমের মহেন্দ্র মোহনো তরী,জন্মান্তর জীবনে ঘুরী,ওহে মানব খাঁচা তোমারী।
হায়রে যাই বয়ে যাবে,সেই দিন কখনো কি আর পাবে,নিজ হতে দুরে এই বিজনাপুরে,কেমনে তোমরা নিরুদ্দেশ হলে।
ধর্মের নামে অধর্ম করি,সত্য গেছো ছাড়ি,বিশ্ব পশু হত্যা দিবস উৎসব ঈদ পূর্ণমিলনী,বর্বর সন্ত্রাসী স্রষ্টার তরে সৃষ্টির বলী।
মনুষ্য মানবতা শতকরায় শূন্য,অন্ধ কুসংস্কার খোজে অহংকারে পূণ্য ,সত্য পথে কেউ নাই আজি,রোষে বিষাক্ত হিংসাধারী।
ঘিরিয়াছে ভয়াবহ পাপ শাস্তি, ঈমান হারা মুনাফিক সব নাস্তি, আত্ম চেতনার চিত্তের সাধন,মানব ছাড়া কে হই প্রাপ্তি।
হরেক জাতের হরেক বাধা রীতি,লিখি সাম্যের মানব বন্ধন প্রীতি,আপন মানুষ মনে খুজি,ঈমানের আয়নায় নয়ণে দেখি।
আজি ধর্ম কান্দে আদম কইরে,এরা ধর্মের কুপুত্তলিকা গড়ে,হারে রে রে ধর্মডাকাত হবে তাড়তে,ধর্ম যে আত্ত মর্ম পিড়ীতে।
চাইলে কি আর পাওয়া যাবে,শুনেছি বিদ্যার লাভ কি তবে,অন্তলোক আলোকে দেখো নিজ সুবোধে,ও সে মানব হৃদমহলে।

জগতে বিপাকে ধর্ম চলাচলে,অধমের পঁচা কাঠাল খায় অলস ভামে,মড়ক মৃত্যু ধর্ম সমরে,জাত অধর্ম কইবো কাহারে।
বেদ বান্ধা বই যেই যার মত পড়ি,যার মতে কিছু রাখিয়া বিশেষ,বাকী সব গোপনে শেষ,হায় হায় এলো এ কোন পরিবেশ।
হে আমার হরতা মিথ্যার মুখোশ খুলুন,পাপ অন্ধকার সমুলে বিনাশ করুন,এ প্রার্থনা প্রেমো আবেশ,সত্যের জয় আহা বেশ।
স্বর্গের একমাত্র সম্মানে হও আসীন,নরকে ডুবে যাবে সব জালিম,আগুন জলের প্রলয় তুফান,কাফের বেদ্বীন হোক পরাধীন।
যে গাছ যে বীজের রুপ তার কী দোষের,নাই কোন আফসোসের তোমার সত্য আদেশের, যারে দেবে দাও দোষ,এইতো কর্ম কপাল ঘোষ।
স্রষ্টার নামে প্রতারক ঠকবাজ,অপধর্ম অপজাত হোক কুপোকাত,ধর্মান্ধ অপকর্মা ভবে বস্তুবাজ,পড়ুক আজব আসমানী বাজ।
কার মুল্লুকে করিয়াছো বাস,প্রভু দৃষ্টি সর্ব সর্বত্রের প্রতাপ,অনাদী অনন্ত আবেশ,সে জ্ঞানীর নাই কোনই শেষ।
জীবন ও জগতে দেখিলাম আজ,কাটার চেয়ারে বসিয়া খুশি মহারাজ, পর দেখানো আরাধনা,জাতে এ কি মিথ্যার প্রচারণা।
ভব সংসারে ত্যাগী হও দেহীফারুক, ভোগে ভুগান্তির নামিবে মহাদুখ,জরা বীষ বেদনা ঘিরিবে অসুখ,ত্যাগে মিলিবে মহাসুখ।
হে অভাগা আধুনিক ভূবণবাসী,তোমরা কোথায় কোন দশাতে আসলে ছুটি,কোন খেলাতে কোন হেলাতে’ পড়ে গেলে ঘোর বিপথে।
ভণ্ড জনে হচ্ছে ধর্মের রাজা,এই জগতের জঘণ্যতম প্রজা,ধর্ম গেছে অধর্মের রসাতলে,ধর্ম জাত বিজাতের বড়াই গলে।
কোন সে পাপে করলে একি,আধারে পেতে ফাঁদ ফন্দি ফিকেরী,মুলের খবর কেও রাখোনা,পাতাই দেখী রঙ বাহারী!
আপন দেহ ছেড়ে যেওনা বাইরে,আসমান জমিন তন্নতন্য শেষ ফল নাইরে,ঈমান রতন মনের মানুষ, তার কী ভুলা যাইরে।
কেবা আপন কেবা পর দুদিনেরী খেলাঘর,আপনারে আপনি চিনি,বেদ তত্ত্বের বিদ্যাছাড়ি,অনায়াসে মিলে যাবে পরয়ারে।
চোখের ছানি যার কাটেনি,চোখ থাকিতে অন্ধ তিনি,নদীর রেনু বালিকার রাশি,বালুকা বেলায় কে যাও হাসি।
জন্ম যে হই যথায় তথায়,ধর্ম গুণে হই মানুষ, মানব ধর্ম একান্ত আপনে, জাত ধর্মের লোকেরা শয়তানের দহনে।
সূর্য্যী দেখো কোন বাধনে,বায়ুতে জল ভাসিয়ে উড়ে,জনক জননীর উলঙ্গ সুখে,এসেছে মানব এই জীবন ও জগতে।

8 thoughts on “জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ২৫

Leave a Reply