কে থাকিবে ডানে,আর কে থাকিবে বামে,এ হিসাব বড়ই কঠিন,তার সৃষ্টি তা কেমনে জানে।
মহাস্রষ্টার সৃষ্টি জগতে,জাতধর্ম তলিয়ে হিংসার আধারে,যবন খ্রীষ্ঠান বহুজাত বাহারে,দম্ভ যুদ্ধ হাহাকারে।
ফলাফলে জাত মিথ্যুক পরিপাটি,দাজ্জালের বংশপালে জাত ওর জাতি,আদম হারা শয়তান সেজদায় পাথুরে।
অযুত পূরাণ ছেড়ে দিয়ে,কাগজ পূরাণ ধরি,যার বুঝেতে যে বুঝ পাইয়াছে,এক মানবজাতি খণ্ড বিখন্ড জাতি।
এক মহাময় হরতা আমার,নিরাকারে সাকার তিনি,সাকারে নিরাকার,বিশ্বাসীর আছেন আদমে স্বকার।
একই রুপ দুয়েতে মিলন,আদম ও হাওয়া, ভাগ্য হলে পাবে তুমি স্বার্থক জনমধারা,অনাদী অনন্ত সনাতনে সেবা।
জীবন ও জগতে পেরেষানীর বিষপ্রথা,জাতিধর্মে ফাদার সাজিলে, কাগজে পেলি পূরাণ বা গীতা,মানব বলে তাই সুরে কথা।
আপন জনমে মানবেরী কথা,যাহার বেদনা নই অন্যে ব্যথা,নিজ হতে দুরে বিভিন্ন যথা,স্বনয়ণে দেখলে হয় দেখা।
বিত্ত্ব বৈভব বলবান বলী দাতা,বিদ্যান মন্ত্রক কুণ্ঠক কুহিলেকা,কুসংস্কার ধর্মে লজ্জাহীন,মরিচিকা অধর্মে ধরা।
নিজ মাতৃিকভাষা ছেড়ে,পর বোলে পেড়ে পরকিয়া,বিমাতৃিক বেধর্মা কি বেহায়া, ওরে নরাধম নিকৃষ্ট অপয়া।
ঈমানে আসীন তিনি,বেঈমানের ভুল,সকল জীবের অন্তরযামী প্রভু মাকবুল,পরবুলা দিতে হবে মাশুল।
না জানি তথ্য সঠিক,ওরে বোকা বাড়াবাড়ি কী ঠিক!পাপের ভারে জীবনে ডুবিস,তাহার ডরে আজ ভুবণ কাপিস।
জীবন চিত্ত চৈতন্যের চেতনে,একেলা মর্ম দীপ্ত আপনে,যারা দলবদ্ধ বহিরাঙ্গ বাহারে,মিথ্যাচার কুসংস্কার আধারে।
বনে নই মনে মোর,সুর কথা তাল বাঁজে,বেদুইন বেজন্মা নাস্তিক পরভাষে ডাকে,পাগলামী জাতের সমাবেশে হাঁকে।
বেদনাকর ভয়ানক অন্ধকারে,ধর্ম কুসংস্কার অবাঞ্চিত অহংকারে,মহৎপ্রাণ মানুষের নাস্তিক বলে,সঙ্গীতহারা পঙ্গপালে।
ভৌতিক জৌলুসের প্রাসাদ গেড়ে,দানবে মন্ত্রের রামায়ণ পড়ে,ভূতে ধরা ভণ্ডের দলে,ভূয়া জাতের জিকির করে।
মানব মনুষ্যত্ব হারা অমানুষ ভবপুর,মস্তকে গেথেছে বীষলংকার শুল,ধর্মচোর ফেরিওয়ালার মুখমণ্ডল হোক ভাংচুর।
এ পৃথিবীতে কে হয় বলো কার,সংসারতন্ত্র,সমাজতন্ত্র আদিম জাতধর্ম মিথ্যা আচার,আছেন কহে নিরাকার।
নই সুখ বেশীদুর যার জীবন তার, শুনে পড়ে মন্ত্রাগার কুমন্ত্রণার আধার,জীবন হতে নই দুরে,ঈমান আমলে আকার।
আপন ভাষা ছেড়ে বিদ্যা বোকার,অপঘাত অপসংস্কৃতির অধর্ম অঙ্গাকার,বেশতো খেলা শুরু,ডুবলো বেলা গুরু।
বুদ্ধ নামে মহা অবতার ছিলেন,আপন পালি ভাষায় এসেছিলেন,একেক ভাষা একেক বুলী,না বুঝলে জাতের ঝুলি।
জন্ম জাত ভাষায় আসে প্রতিনিধি, অতীত বিড়ম্বনা সন্দেহের গতিবিধি,জীবন ও জগৎ স্রষ্টার সৃষ্টি, মানবতার হই বসতি।
আপনার আপনি নির্বাণ হলে,পরম পরমত্ব মিলবে গলে,অহিংসা পরমের ধর্ম,যাই ফেলে ভাষা আসে পরজন্ম।
তোমারটা যাও আমারটাও তাও,হে আমার অন্তরযামী সত্য বলাও,বিভেদটারে দুরে সরাও,ওহে পথিক একটু দাড়াও।
কে ছোট কে বড় সে ভেদ নাহি করো,বিভেদ মালা ছিটকে ফেলে,মাতৃভাষার গান ধরো,কেনো এরা বলেছিলো কথা সুমধুরসম।
একই বীজের শস্যদানা,বীজ হইতে বীজ চক্রে বুনা,একই স্রষ্টার সৃষ্টিধারা,জান হইতে এসেছে জান প্রকাশ আমরা।
না শুনিলে তকদির এযে,কেমনে তারে রুখিবে সে কে,জন্মের আগুনে জাহান্নামের দাফনে,জীবন ও জগতে নাই শেষ তাহারে।
কোথাই চলো কোথাই ফেরো,একবার কী তা ভাবতে পারো,অনন্ত চেতনার দেহীফারুক মোর বঙ্গভাষা, এইবার বলো পাই মহাসুখ।
রাত্রের গভীরে সূর্য না আসিবে,এই সৃষ্টি প্রাণ মাখলুক শেষ না হয়িবে,দুঃখ জরাকুন্দনে নরক মরিবে,সুখস্বর্গ বাঁচিবে।
আদন বাগানে শুধু আমরা সুজনে,কথা মাল্য গীতি গাথিরে,বর্ণভাষা জাতি বিদ্বেষ নাহিরে,আমি খুজিনা আমার বাহিরে।
যুগে যুগে ভাব প্রকাশের ভাষা বিবর্তনে,কথার ছন্দ সুধাসুর চয়ণে,কালে কালে এসেছিলে চিরসত্য প্রচারে।
সবাই একার সৃষ্টির প্রাণভার,স্রষ্টা আছে তাই সৃষ্টির আবিষ্কার, জ্ঞান অবয়ব মোহন্ত হবে,এক সে স্বরুপ আকার ধরে।
জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ৪
6 thoughts on “জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ৪”
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.
অসাধারণ
সু-স্বাগতম
অসম্ভব সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় ,,, অতি সাধারণ ভাষায় এত অসাধারণ সত্যি কথা লিখেছেন ।।। তাই আপনাকে জানাই আন্তরিক সাধুবাদ ।।।
অসংখ্য ধন্যবাদ সুপ্রিয়
অমর হোক গীতি কবি দেহী ফারুকের বাণী
কবি বাসন্তী সাথে থাকুন চিরন্তনী।
অসংখ্য ধন্যবাদ