জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ১৭

কি জানি কি হইছে জীবও জগৎ সব টলছে, জীব শ্রেষ্ঠ মানব দিশেহারায় লড়ছে।আধুনকিতায় মত্ত্ব মাতালে, জাত-জাতি দলবদ্ধ কাতারে প্রতিহিংসা পরচর্চায় জ্বলছে।

এ জীবন তোমার আমার, জগতের বর্ণবাহার, জনকছাড়া জন্মে কি কেহো ? আঁধারে দৌড়াচ্ছে।

অজশ্র তাঁরার ঝিকিমিকি, এক চাঁদেরই আলো, মানুষগুলো কেমন করে অমানুষ হয়ে গেলো!

নয়তো ওরা মানুষ নয়,বন্যপষুত্বের গন্ধ পাই, দলে ধাক্কা মারে ছক্কা, বেধেছে ভূয়া মারিমারি।

হৈ হৈ রৈ রৈ কার কথা কারে কই, মনুষ্য বিকাইয়া পশুত্ত্ব জড়াইয়া করে কোলাকুলী।

রাত বয়ে যাই দিন ফিরে পাই, কি লেখি কি লেখি খাতায়, সুর তরঙ্গের সুর লহড়ী।

গহীন জলে মাছের কাঁদন, মাছ ছাড়া আর কে বুঝবে, কী স্বকরুন মাছের জীবন।

বৃক্ষলতা পাতায় সজীব প্রাণ, বৃক্ষ ছাড়া কেউ বুঝিবার আছে কি, তাতে কোন কাম?

মহারুপকারে এ অপরুপ সৃজন, জগৎ ও যাপনে বিচিত্র প্রাণায়ম, রুপের রুপায়ন।

বহে প্রাণীয়ম প্রাকৃতিক ঘূর্ণ্যায়ন, রুপের আলোর বাধন ধরি, রুপে রেশে চলকে-চারী।

করিৎ কমল হরিৎ প্রেমী, জীবের প্রেমীক স্বর্গগামীমানব জনম সর্বেসর্বা শ্রেষ্ঠ দামী

হর্তাহ, যাহার না দেয় আলো, সাধ্য কী তার দেখবে ভালো, সত্য সুধা অসীম তুমি।

তুমি আমি সে তাহারা, আল্লাহ আছেন তাই চেহারা। একা মেড়ে ফেরে সাঁই, নাই শরীকদারী।

প্রকৃতির সফল সৃষ্টি এঁকেছেন অমর আকতি, সৃষ্টা ছাড়া জীবন প্রাপ্তী? নিকটে পাবে শাস্তি।

নিজ থেকে দুর হয় ভুতোপুর, যাইওনা তোমরা নিজের বাহির, দিন হলো দিন আখেরী।

কি মহিমা দেখে নাও করিশমা, মানতে পারোনি ছিলাম আমরা, তকদিরেতে লেখা।

জানি পারিবা না, হারিবা অবশ্যই হারিবা, ভুগোল পুজারী তোমরা মানুষ থাকিবা না

পরাধিনতার ছিকলে বান্ধা প্রাণ, অভ্যাসে পরের ভাষাই করে গুনগান, বন্দিনী জানেনা

বেঁধেছে জাতের মর্মান্তিক গোল, যার যেই বোঝা সেই তোল, লেগেছে মহা গন্ডগোল।

জ্ঞান অন্ধতার, ভয়াল অন্ধকার অতুল, আধুনিকতার  বিক্ষীপ্ত বেহুদা নেশাচর মাতুল।

ধর্মশালায় প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে চাকচিক্কের জ্বহল, ধার্মিক হয়েছে শূন্য, অধার্মিকের মহল।

কূপের ব্যাঙ এলো ঝিলের জলে, লাফ, ঝাপ দেয় ডুব ঘেঙ্গুর ঘ্যাং সাগর পেলে।

যারে দেখোনি নজরে, শুনে করো বয়ান সেজেছো বোধে আয়ান, কয়দিনের ভূবনে।

জ্ঞানের আলোয় মনন ভিজায়ে যাও উদাসী অসীম পানে, সসীমতার জীব শৃঙ্খল পেরিয়ে।

যতঃক্ষন দেখিনি হর্তাহ তোমারে, স্বস্তী আনন্দ আসেনি পরানে, তোমাতে আমাতে বলিব কেমনে।

নিজে খেলে খাওয়া হয়, নিজে দেখলে দেখা হয়, নিজের যৌবনে নিজেই মাতো যৌন জোয়ারে।

যার কুস্বভাবে সেই হবে নগন্য, যার সুস্বভাবে সেই হবে অনন্য, জীবন তোমার তোমারই জন্য

শুনাশুনিযে কথ্য, দলে বলে রে দৈত্য, রোগে ডাকে বৌদ্ধ, মানো নাকো মানব সত্য।

জাতের কেউ ছুঁইওনা মোরে, জাতের কুলাঙ্গার জ্বরছে জ্বরে, লিখে গেলাম মানবেরই তথ্য।

এমন সুন্দর সমাধান দিন হবে, যার গন্তবে সেই পৌঁছাবে, মানুবে মিশে অমানুষ নাহি রবে।

বয়ে গেছে অজস্র কাল, ফিরে তাকাও জ্ঞানেস্বর পিতাজান, শ্রেয় আনন্দে তব নয়ন মেলে।

4 thoughts on “জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ১৭

Leave a Reply