জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ৩

আদম প্রেমে যে মজেছে,ভয় নাই তাহার পরপারে,মহিম পিতার মহিম বাণী,তর্ক ছাড়া বুঝবি যদি।
আদমে আল্লাহ দিও নাকো পাল্লা,গড়িয়াছেন আপন রুপ প্রভু মাশাআল্লাহ,সৃষ্টি প্রাণীকূল যার যেই জিল্লা।
না রাখিলে খবর মহামান্য রহস্য,মানব জনমে এসে অপচয়,মনের মানুষ মর্ম পরশী,আপন সাধনায় হও পারদর্শী।
হরেক পথে হরেক বাধা,হরেক জাতের হরেক ধাধা,ওরে ওরা যারা আদম হারা,হয়েছে নিয়তো সর্বহারা। শান্তি সুরের কাব্য গাথা,আদম সুরে কইছে কথা,তাইতো লেখা কাগজের পাতা, শুনে পড়ে বেইমান গাড়া।
এক আলোকে ভুবণ গড়া,বিভেদ তবে করলে কেগা,হরেক জাতের হরেক ফেরকা,বসছে বেচা কেনা ভন্ডের দরগা।
রসিক যে জন আশিক সে জন,মাসুক ও হলেন সে গা,নিজো নিভৃতে মন মন্থিলে,সুর মঞ্জিলে সোনার গা।
হারে রে রে মায়ের কব্বর কনে,উজবুক মামা কান্দে কোনে,হরতা বাস করেন আদমে,নরাধম সেজদায় লুটাই ভূগোলে।
পর বোলে বেসুরার দাড় কাঁকে,কা কর্কষ ডাকে উড়ে,জাত ঝাড়ে ভেক ধরা হতুম পেঁচা,চোখ রাঙিয়ে ভেচকী কাটে।
তিরষ্কার করো মানবকে,মহাপাপ মানব জনমেতে, দানবের কাছে হেরে সন্ধি, বন্ধি জন্মের জাহান্নামে।
এ জগত চলাচল শেষ নাহি রবে,অনন্ত পৃথিবীটা স্বর্গ দেশ হবে,আদম জ্ঞানন্ত ,স্বর্গ প্রতিষ্ঠা ঠিকই পাবে।
জীবিত দাফনে পুড়িবে জাহান্নামে,পালাবার কোনই ফাঁক নাহিরে,চিৎ হয়ে ঘুমাবার স্বপ্ন যাবে,চক্রাকারে নেবে প্রাণীতে।
অমানিশা আন্ধারে পাপী তাত্ত্বা হা হা কারে,ছায়াহীন বাতাসে বয়ে যাবে আহারে,স্বরুপ মানব ছায়া পরিতাপ ভয়ারে।
মানব মান্য অন্তর্যামী হরতা,আপনার অস্ত্বিত্ব নিয়ে মিথ্যাচার ! জোটে পালে জাতের চিৎকার,ভুতের নিকৃষ্ট ধর্মাচার।
এক পাথর গেড়ে বানায় শয়তান,ছোড়ে অবজ্ঞা ঢিল ভর্ষনা,অন্য পাথর এঁকে বানাই স্রষ্টা,করে ভক্তির ভজনা।
বিশ্বাসে উড়ে বাতোসা, খায় ধরে ভক্তরা,জাতি আর জাতের নানাবিধ রসনা,মরলে পরে পাবে জান্নাতের কাল্পনিক বাসনা ।
জগতে কুল ধর্মের কারামতি বাড়ে,কল্পনার হাতি আকাশে হাটে,আম পাবলিক জাত জনতা,গলে মালে করে ভণীতা।
এতদিন ভাবো নাইরে মনে,বিদ্যা বিজ্ঞানের জৌলুসের অন্ধকারে, ভূয়া বিপন্ন মানবের সভ্যতা,অনাচারে জঘন্য দৈন্যতা।
ভুঁইফোঁড় ভাবনায় তাদের কালচার,কানাকানি বহুদুর মিরাক্কেল সরকার,কান নিলে চিলে হালচাল,কলিতে এলো ব্যাভিচার।
মহাসত্য আছেন কোনো সন্দেহ নাই,কিন্তুক তিনি আছেন বলে,তীর্থ স্থান গেড়ে, ভণ্ডামি জাত ধর্মের এ কোন নোংরামী।
হায়রে কী অবস্থা অজানাকে নিয়ে, জাত জালিয়াতের ব্যবসা,কতই না জাতের ধর্ম, বেঈনসাফে বেহুূদা করে কেচ্ছা।
মগজ ধুলায়ে হইয়াছে ভেলকা,জীবনে উজ্জীবনী কয় দিনের আচ্ছা,দলে মিলে পরো-তাজ,জেনো মস্তক কিন্তুক একটা।
এই জগতে মহা হতে মহাবিশ্ব, সীমাহারা সীমা তবু এক মহা ঈশ্বর,মর্ম মরমে সেই ঈমানে দেখা,তুমি আমি সবাই একা।
অনাচার কুসংস্কারে জাত ধর্মের কাফেলা,পরভাষী আরবি-ফারসি শিক্ষার মাদ্রাসা,ছিঃ ছিঃ বলাৎকারের কারখানা।
আদম স্রষ্টার বসত ভিটা, এই সত্য যাহারা মানে না,কাফের অবান্চিত মুরতাদ, মানব রুপে জ্বীন জাতি তাহারা।
আমার ভাষার পথ প্রদর্শক,অন্য ভাষার হবেনা,এতো দেশ কত কথা,কতই না মানুষ, কেহই নই কারোর চেহারার।
নদী যায় ঢেউ খেলিয়া, সাগরের পথ ধরিয়া,যে পেলো মানব খাঁচা,মর্ম সাধন আপন জয়ে পরম দীশা।
প্রতিহিংসা ধর্ম ছাড়া,তবু নেই ছটা ছিটেফুটা,ভুল হলে সকল গরল,যেমন দুধেতে গোচুনা পড়া।
কুদরতের অপার লীপি,দেহীফারুক লিখবে যদি,মহিয়ান মহিম তিনি,রেখেছেন অপাময় অমর কীর্তি।
পাপেতে যখন ভূবণ ভরা,হেলায় হেল্লা নারীর দেয় হেবা,হৃদয়ে দিয়েছো কষ্ট,পরিতাপ মর্ম কর্ম করে নষ্ট।
দৈব্য দানে না হলে উজালা,খোদা জ্ঞানে লব্ধ কে গা,অপরের ভাষা সেঁচে, নাহি পাবে সঠিক টি যে।
ইল্লীনে আদম আহাদ যিনি,মানব জগতের প্রতিপালক তিনি,মাথাতে রাখিও শুধী, জন্ম মৃত্যু ললাটে নিধি।
সময়ের প্রেক্ষাপট সমাহারে, কাল থেকে মহাকাল দিয়াছেন ছেড়ে,সেই অপরুপ মালিক বিধি,দিন হতে দিন এলো আখেরী।

8 thoughts on “জীবন ও জগৎ | গীতিকবি দেহীফারুক | পর্ব ৩

Leave a Reply